শীতে ঘুরতে যাবার ভারতের বিখ্যাত ৫টি জায়গা
শীতে ঘুরতে যাবার ভারতের বিখ্যাত ৫টি জায়গা
শীতকালে কেন বেড়াতে যাওয়া উচিত?
শীতকালে ঘুরতে যাওয়ার ভারতের কিছু জায়গা
১. আন্দামান দ্বীপপুঞ্জ
আপনার হাতে যদি বেশ কিছু দিনের ছুটি থাকে তাহলে আপনি ঘুরে আস্তে পারেন এই আন্দামান দ্বীপপুঞ্জে থেকে। বঙ্গোপসাগরের উপরে অবস্থিত ৫৭২ টি দ্বীপ নিয়ে গঠিত এই আন্দামান দ্বীপপুঞ্জ। নীলচে সবুজ জলরাশি দিয়ে ঘেরা দ্বীপ গুলি কে দেখতে লাগে ছবির মত, যেনো প্রকৃতির এক অপরূপ লীলাখেলা। সেই সঙ্গে এই দ্বীপ নিজের সথে বইয়ে বেড়াচ্ছে ভারত স্বাধীনতা আন্দোলনে অসংখ্য বিপ্লবীর আত্মত্যাগের গল্প।
এখানকার মিলছে নীলচে-সবুজ সমুদ্রের বুকে রয়েছে অসংখ্য প্রবাল প্রাচীর ও বিভিন্ন প্রজাতির মাছ। আন্দামানের ভাইপার দ্বীপে রয়েছে একাধিক লাইট হাউস যার উপর থেকে আপনি গোটা দ্বীপ দেখতে পারবেন। এছাড়া এখানে রয়েছে বিভিন্ন সরকারি আবাস ব্যবস্থা ও বেসরকারি বিভিন্ন হোটেল ও রিসোর্ট যার জন্য এখানে পর্যটকদের কোন রকম অসুবিধা হয় না। এছাড়াও এখানে রয়েছে একাধিক ওয়াটার স্পোর্টসের সুযোগ যেমন স্কুবা ডাইভিং বা স্নোরকেলিং। এখানে ঘুরতে যাওয়ার সেরা সময় হলো নভেম্বর থেকে মার্চ মাসের মধ্যে।
আন্দামান দ্বীপপুঞ্জের দর্শনীয় স্থান
কিভাবে যাবেন
বিমান বা জলপথ এই দুই ভাবেই যাওয়া যায় আন্দামানের রাজধানী পোর্টব্লেয়ারতে। আপনি যদি বিমানে করে যান তাহলে আপনি খুব সস্তা এবং কয়েক ঘন্টার মধ্যে পৌঁছে যাবেন আন্দামান দ্বীপপুঞ্জে। আর আপনি যদি জাহাজে করে যেতে চান তাহলে আপনার সময় লাগবে তিন দিন এবং খরচা টাও একটু বেশি হবে। আপনি যদি জাহাজে করে যান তাহলে আপনি যোগাযোগ করতে পারেন শিপিং কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া লিমিটেড-এ সাথে। এই ক্ষেত্রে ভাড়া পড়বে: ডিলাক্স কেবিন- ১১,২৯৫ টাকা, ফার্স্ট ক্লাস কেবিন- ৯,৩৬৫-১০,২৯০ টাকা, সেকেন্ড ক্লাস কেবিন- ৭,৪৪৫-৯,৩৬৫ টাকা, বাঙ্ক ক্লাস- ২,৯০৫ টাকা। এদের ঠিকানা- ১৩, স্ট্র্যান্ড রোড, গ্রাউন্ড ফ্লোর, কলকাতা ৭০০ ০০১।
২. কেরালা
আপনি যদি ভ্রমণ প্রেমিক হন তাহলে আপনার অবশ্যই উচিত একবার হলেও কেরালায় আশা। কারণ এখানকার সুন্দর ও মন্ত্রমুগ্ধকর নিরিবিলি শান্ত পরিবেশ ও মনোরম আবহাওয়া আপনার মন জয় করে নেবে। কেরালা কে অনেকে ঈশ্বরের দেশ বলে মনে করেন যদিও এর আসল রহস্য হল এখানকার মানুষের পরিবেশের উপর সচেতনতা। যার কারনে কেরালা সৌন্দর্য প্রতিটি পর্যটকের মন কেড়ে নেয়।
কেরালায় ভ্রমণকালীন আপনি চড়তে পারেন এখানকার হাউস বোর্ড গুলিতে। এখানকার হাউসবোর্ড গুলিতে ভ্রমণ করতে করতে আপনি দেখতে পারবেন কেরালার গ্রাম্য
পরিবেশ ও নদীর সৌন্দর্য। কেরালায় রয়েছে অসংখ্য চা এবং মসলার বাগান যে এখানকার একটি অন্যতম আকর্ষণ, আর কেরালার মসলা হল জগৎ বিখ্যাত। এখানকার খাবারের এত সুস্বাদু যে আপনার মন কেড়ে নেবে। এখানকার ভেজ উপাদান দিয়ে তৈরি খাবারগুলি খেতে অতুলনীয়। আপনি যদি সাপুট খেতে ভালবাসেন তাহলেও আপনার জন্য রয়েছে বিভিন্ন পদ। কেরালা রাজ্যটি পশ্চিমঘাট পর্বতমালার মধ্যে অবস্থিত আর আপনি যদি পশ্চিমঘাট পর্বতমালার সৌন্দর্য দেখতে চান তাহলে আপনি পৌঁছে যেতে পারেন কেরালার কোন হিল স্টেশনে। কেরালায় গেলে আপনি অবশ্যই কেরালার জনপ্রিয় নৃত্য কথাগুলি উপভোগ করতে পারেন। এই নৃত্যের জন্য শিল্পীরা ঐতিহ্যবাহী পোশক ও মেকআপ করে থাকেন। কেরালার একটু অন্যতম আকর্ষণ হল "স্নেক বোট রেস"। এটি একটি ঐতিহ্যবাহী খেলা যা প্রতিবছর বর্ষার ঋতুতে আয়োজিত করা হয়। এই খেলাটিতে কেরালার বিভিন্ন গ্রাম তাদের নৌকা নিয়ে অংশগ্রহণ করে। আপনি যদি এই খেলাটি দেখে থাকেন তাহলে এটি আপনার কাছে একটি সুন্দর স্মৃতি হিসেবে থেকে যাবে।
কেরালার দর্শনীয় স্থান
৩. রাজস্থান
আপনাকে রাজস্থান ভ্রমণের জন্য মাথাপিছু ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা হাতে রাখতে হবে, যা আপনার খাওয়া দাওয়া, গাড়ি এবং হোটেলের উপর নির্ভর করবে। শীতের রাতে বর্ণফায়ার সঙ্গে মরুভূমি দর্শনের একটি আলাদাই মজা। রাজস্থানে গেলে আপনি অবশ্যই উটের পিঠে মরুভূমি ভ্রমণ করবেন যা আপনার কাছে একটি রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা হবে। অন্যান্য ভবনের থেকে রাজস্থানে ভ্রমণ হলো সম্পূর্ণ আলাদা, তাই এই শীতে আপনি ঘুরে আসুন রাজস্থান থেকে এবং একটি নতুন অভিজ্ঞতা অর্জন করুন।
রাজস্থানের দর্শনীয় স্থান
৪. গ্যাংটক
ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে সিকিম রাজ্যের রাজধানী হল গ্যাংটক যা হিমালয় পর্বতশ্রেণীর মধ্যে অবস্থিত একটি শহর। এই গ্যাংটক শহরের সুন্দর্য কথা মুখে বলে অথবা লিখে প্রকাশ করা অসম্ভব এটা দেখার জন্য আপনাকে অবশ্যই গ্যাংটকে যেতে হবে। আমরা সকলেই সিকিমকে মেঘের বাড়ি দেশ না আমি জানি আর এই মেঘের বাড়িতে ঘোড়ার সব থেকে সহজ উপায় হল গ্যাংটক। আপনি যদি প্রথমবার সিকিমে ঘুরতে যান তাহলে আপনি চোখকান বন্ধ করে সোজা চলে যেতে পারেন গ্যাংটকে। সিকিমের এই অপরূপ সৌন্দর্যের জন্য একে "পূর্ব সুইজারল্যান্ডে" বলা হয়।
এই গ্যাংটকে বিভিন্ন বৈচিত্র্যময় উদ্ভিদের সঙ্গে বিভিন্ন বৈচিত্র্যময় প্রাণী আপনি দেখতে পাবেন। যারা প্রকৃতিপ্রেমী আছেন তারা অবশ্যই এই গ্যাংটকে যেতে পারে, এখানে আপনারা দেখতে পাবেন বিভিন্ন রোডোডেনড্রন, বিভিন্ন
আর্থিক প্রজাতি সঙ্গে লাল পাণ্ডা। যা শুধুমাত্র এখানেই পাওয়া যায়। এছাড়াও এখানে রয়েছি বিভিন্ন হদ ও পাহাড়ি ঝর্ণা। আর এই শহর থেকে আপনারা কাঞ্চনজঙ্ঘার দর্শন ও করতে পারবেন। এখানকার প্রধান আকর্ষণ এখানকার হট স্প্রিংগুলো যা ভেষোজ গুণের জন্য এখানে পর্যটকদের কাছে সুপরিচিত। গ্যাংটক কে ভারতের প্রধান শহর গুলির মধ্যে ধরলেও এখানকার জীবনযাত্রা মোটেও সহজ নয়।
গ্যাংটকের দর্শনীয় স্থান
১. রুমটেক মনাস্ট্রি
২. ছাঙ্গু লেক
৩. টিবেটোলজি
৪. চোর্তেন সৌধ
৫. ফ্লাওয়ার শো
৬. কটেজ ইন্ডাস্ট্রি
৭. নামনাং ভিউ পয়েন্ট
৮. তাশি ভিউ পয়েন্ট
৯. হনুমান টক
১০. গণেশ টক
১১. জুওলজিকাল গার্ডেন
১২. ইঞ্চে মনাস্ট্রি
১৩. বনঝকরি ওয়াটারফলস
১৪. রোপওয়ে
৫. গুলমার্গ
শ্রীনগর থেকে কিছু কিলোমিটার দূরে সবুজে ঘাসে বরফে ঢাকা জায়গাটা হল গুলমার্গ যা সারাবছর বরফের জন্য পর্যটকদের কাছে বিখ্যাত। এখানে যেতে আসতে আমরা সারাদিন লেগে যাবে। এখানে গেলে আপনি প্যারাগ্রাইটিং উপভোগ করতে পারবেন উপর থেকে এই জায়গাটিকে আরো সুন্দর দেখাবে। এখানে আপনি দেখতে পারেন ওয়াটার লিলি গার্ডেন কি সুন্দর পাপড়ি খেলা পদ্ম গুলি চারিদিকে যেন এক অপূর্ব শোভা ছড়াচ্ছে। এছাড়াও আপনি এখানে দেখতে পারবেন ভাসমান সবজির বাগান।
রাস্তা দিয়ে যখন আপনি ভ্রমণ করবেন তখন আপনি রাস্তার দুদিকে দেখতে পারবেন সারি সারি আপেলের বাগান। এছাড়াও রাস্তার দুদিকে রয়েছে বিভিন্ন ঐতিহাসিক বাংলো এবং বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান। এছাড়া যেটি আপনার সব থেকে বেশি মন করবে সেটি হল চারিদিকে ঘন সবুজ উপত্যকা।
গুলমার্গের দর্শনীয় স্থান
ভ্রমণের উপযুক্ত সময়
যারা স্নোফল দেখতে পছন্দ করেন তাদের জন্য গোলমাল ভ্রমণের উপযুক্ত সময় হল ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি। এই সময় এখানে সব থেকে বেশি সুনো গোপাল পাওয়া সম্ভব না থাকে।
শীতের বেড়ানোর প্ল্যান করার আগে সবার আগে কী মাথায় রাখা উচিত?
অনেকেই শীতকালে বরফ দেখার জন্য শীতের জায়গা গুলিতে ঘুরতে পছন্দ করে। তাছাড়া এই সময় এখানে খুব কম খরচে তো ঘোরা যায়। তাই এই সব জায়গায় ঘুরতে গেলে আপনাকে অবশ্যই এখানকার ওয়েদার সম্পর্কে জানতে হবে। শীতকালে বিভিন্ন তুষার ঝড়ের কারণে এসব জায়গার রাস্তা বরফে ভর্তি হয়ে যায় যার কারণে রাস্তাঘাট সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।
সবদিক চিন্তা করে ঘুরতে যাবার ৩-৪ মাস আগে বুকিং সেরে ফেলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আর আপনি পাহাড়, সমুদ্র, জঙ্গল যেখানেই ঘুরতে যান না কেন তার জন্য আপনাকে তার সম্বন্ধে আগে থেকে বিভিন্ন তথ্য জেনে নেওয়া খুবই দরকার।











Comments
Post a Comment