হুগলি জেলার ৫টি খুবই জনপ্রিয় দর্শনীয় স্থান


হুগলি জেলার ৫টি খুবই জনপ্রিয় দর্শনীয় স্থান


আমরা যদি পশ্চিমবঙ্গের পর্যটন মানচিত্রটিকে খুব ভালোভাবে দেখি তাহলে এই জেলাটি আমাদের সবার দিষ্টি আকর্ষণ করবেই। ভাগীরতি বা হুগলি নদীর তীরে অবস্থিত এই হুগলি জেলা। এই হুগলি জেলায় রয়েছে অসংখ্য ধর্মীয় স্থান, এছাড়াও রয়েছে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক স্থান। 

এই হুগলি জেলার নামকরণের কোনো বিদেশীকৃত নেই, কারণ ১৪৯৫ সালে মনসামঙ্গল কাব্যে এই জেলার নাম উল্লেখ আছে যেটি লিখেছেন বিপ্রদাস পিল্লা। এর ২২ বছর পর পর্তুগিজরা বাংলায় প্রবেশ করেছিল।

এই আর্টিকেলটিতে, আপনি হুগলি জেলার নিম্নলিখিত স্থানগুলি ব্যাপারে জানতে পারবেন

১. ব্যান্ডেল চার্চ

২. হুগলি ইমামবাড়া

৩. তারকেশ্বর মন্দির

৪. চন্দননগর মিউজিয়াম

৫. কামারপুকুর


১. ব্যান্ডেল চার্চ


ব্যান্ডেল চার্চ নামটি কমবেশি সবাই শুনেছি, ইংরেজি বছরের শেষ দিকে এই নামটি একটু বেশি শোনা যায়। বছরের এই শেষের সময় টিতে মানুষজন একটু ঘুরতে যেতে পছন্দ করে, আর এরমধ্যে মানুষের মনে যেইগা করে নিয়েছে ব্যান্ডেল এর গির্জাটি। এটি পশ্চিমবঙ্গের প্রাচীন গির্জা গুলির মধ্যে একটি, যার পোষাকি নাম 'দি ব্যাসিলিকা অফ দি হোলি-রোসারি, ব্যান্ডেল'। কেউ কেউ এই গির্জা টিকে “পবিত্র রোজারির ব্যাসিলিকা” নামেও ডেকে থাকেন। এটি হুগলি জেলার উল্লেখযোগ্য এবং প্রাচীনতম নিদর্শনগুলির মধ্যে একটি।

এই গির্জাটি ১৫৯৯ সালে বাংলায় পর্তুগিজ বসতি স্থাপনের সময় প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, যখন ব্যান্ডেল বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে একটি বন্দর হিসাবে ব্যবহৃত হয়েছিল।

সময়:- সকাল ৬:০০ - সন্ধ্যা ৬:০০(প্রতিদিন খোলা থাকে)

কোনো প্রবেশমূল্য লাগে না।


কিভাবে যাবেন ব্যান্ডেল চার্চ

হাওড়া অথবা শিয়ালদা থেকে ট্রেন চেপে ব্যান্ডেলে যাওয়া যায়। সেখান থেকে অটো, টোটো অথবা হেঁটেই যাওয়া যায় ২ কিলোমিটার দূরে ব্যান্ডেল চার্চে।


২. হুগলি ইমামবাড়া


এই বিশাল দোতলা মসজিদটি হুগলি নদীর তীরে অবস্থিত বাংলার প্রাচীনতম সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যবাহী পর্যটন স্থানগুলির মধ্যে একটি। মসজিদ টির মধ্যে রয়েছে প্রশস্ত উঠান, দীর্ঘ প্রসারিত করিডোর, একটি সূর্যঘড়ি, একটি মহিমান্বিত ওয়াচ টাওয়ার এবং সামগ্রিকভাবে একটি চিত্তাকর্ষক স্থাপত্য সৌন্দর্য।

তবে ইমামবাড়ার প্রধান আকর্ষণ হল এর ৮৫ মিটার উঁচু দুটি মিনার বা স্তম্ভ, যার একটি পুরুষ ও একটি মহিলাদের ব্যবহারের জন্য সংরক্ষিত। সব চয়ে উঁচু তলায় রয়েছে বিগ বেন সেই বিখ্যাত দ্বিতীয় বৃহত্তম ঘড়ি, যা শব্দ প্রতি পনেরো মিনিট অন্তর এক বার করে আপনার কানে পৌঁছাবে। আর প্রতি ঘণ্টায় এর শব্দ একটু বেশি জোরে শুনতে পাবেন, ১৮৪১ সাল থেকে ওই ঘড়ির ঘণ্টা বেজে চলেছে এক ভাবে।


 হুগলী ইমামবাড়া সর্বসাধারণের জন্য খোলা থাকে।

সময়:- সকাল ৮ :০০ - সন্ধ্যা ৬:০০ (প্রতিদিন খোলা থাকে)

প্রবেশমূল্য ১০ টাকা।

কিভাবে যাবেন হুগলী ইমামবাড়া

হাওড়া থেকে ট্রেনে হুগলি স্টেশন, সেখান থেকে অটো বা টোটো করে ইমামবাড়া। কিংবা শিয়ালদহ থেকে ট্রেনে নৈহাটি হয়ে গঙ্গা পেরিয়ে হুগলি ঘাট স্টেশন সেখান থেকে হাঁটাপথে ইমামবাড়া।


৩. তারকেশ্বর মন্দির


পশ্চিমবঙ্গের প্রধান তীর্থস্থান হল তারকেশ্বরের মন্দির। যেটি হুগলি জেলার তারকেশ্বর গ্রামে অবস্থিত, এই মন্দিরটি ভগবান শিবের তারকনাথ রূপকে উৎসর্গ করে তৈরি করা হয়েছে। এটি ভারতের অন্যতম প্রধান জ্যোতির্লিঙ্গ হিসেবে বিবেচিত হয়।

বছরের প্রতিটি দিনে মন্দিরে ভক্তদের ভিড় লেগেই থাকে। শ্রাবণ মাসের প্রতিটি দিন, শিবরাত্রি, গাজন উৎসব এছাড়া প্রতিটি সোমবার বিভিন্ন স্থান থেকে অসংখ্য ভক্তরা এসে বাবার মাথায় জল অর্পণ করে যান। প্রধান মন্দিরের পাশেই রয়েছে নাটমন্দির, যেখানে বসে অসংখ্য ভক্তরা ভগবানের কাছে নিজের মনের কথা জানায়। মন্দিরের পাশেই রয়েছে একটি পুকুর যেটা সকলে দুধ পুকুর নামে চেনে। এই দুধ পুকুরটিকে নিয়ে প্রচলিত রয়েছে মানুষের মধ্যে বিভিন্ন লোককথা ও বিশ্বাস। 


কিভাবে যাবেন তারকেশ্বর

সবথেকে সহজ উপায় হল হাওড়া থেকে তারকেশ্বর লোকাল ট্রেন ধরে এক্কেবারে লাস্ট স্টেশনে নেমে পড়ুন। তারপর হেঁটে বা টোটো করে চলে আসুন মন্দির প্রাঙ্গনে।


৪. চন্দননগর মিউজিয়াম


হুগলি জেলার বুকে অবস্থিত এই মিউজিয়ামটি পশ্চিমবঙ্গের প্রাচীনতম এবং সেরা মিউজিয়াম গুলোর মধ্যে একটি। 

হুগলী জেলার চন্দননগর একসময় ফরাসি উপনিবেশ ছিল, এখনও সেখানে গেলে আপনারা দেখতে পাবেন ফরাসিদের শিল্পকলা। ১৬৮৮ খ্রিস্টাব্দে চন্দননগর এর বুকে ফরাসিরা কুঠি স্থাপন করেন, তৎকালীনফরাসি গভর্নর মশিয়ে ডুপ্লে - এর বাসগৃহ ছিল এই বাড়িটি (বর্তমানে ডুপ্লে মিউজিয়াম)। জাদুঘরটিতে প্রত্নতত্ত্ববিদ এবং চন্দননগরের প্রথম রাষ্ট্রপতি হরিহর শেঠ দেওয়া উপহারের একটি প্রাচীন সংগ্রহ রয়েছে।

এই মিউজিয়ামটি তে গেলে আপনি দেখতে পাবেন প্রাচীন ফরাসি দের বিভিন্ন জিনিসপত্র, ১৮ শতকের কাঠের আসবাপত্র, অ্যাংলো-ফরাসি যুদ্ধ ক্যানিয়ন এবং গভর্নর-জেনারেলের ব্যক্তিগত জিনিসপত্রের প্রাণবন্ত সংগ্রহ দেখতে পাবেন।  


সময়: সকাল ১১:০০- বিকেল ৫:৩০, বৃহস্পতিবার, শনিবার এবং গভর্নমেন্ট ছুটির দিন বন্ধ থাকে।

টাকা: ভারতীয়দের জন্য ৫ টাকা এবং বিদেশীদের জন্য ২০ টাকা

মিউজিয়ামটির সামনে প্ৰায় 2 Km. বিস্তারিত দীর্ঘ রাস্তা যেটি চন্দননগর স্ট্যান্ড নামে পরিচিত। এই রাস্তায় হাঁটলে এটি একটি নস্টালজিক অনুভূতি। বিকেলে এখানে অনেক লোকের সমাগম হয়। সন্ধ্যায় রাস্তার পাশের বাতি জ্বললে সুন্দর দেখায়। মাঝে মাঝে সিনেমার দৃশ্য এখানে মানানসই হয়। 


আপনি যদি চন্দননগর মিউজিয়াম যান তবে আপনি তারি সঙ্গে দেখতে পাবেন পাতাল বাড়ি, সেক্রেড হার্ট চার্চ, নন্দদুলাল মন্দির


৫. কামারপুকুর


হুগলি জেলার অন্যতম পবিত্র গন্তব্য স্থানগুলির মধ্যে একটি হল এই কামারপুকুর, কারণ এখানে জন্মগ্রহণ করেন মহাপুরুষ ও ঋষি শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংস। 
কামারপুকুরে পাকা ঘরবাড়ি, পিচ রাস্তা ও দোকান বাজারে সঙ্গে আপনি দেখতে পাবেন গ্রামের ছোঁয়া, যার কারনে এটি অনেক ভক্তকে আকর্ষণ করে। কামারপুকুর মাসের শেষের দিকে ছোট্ট বেড়ানোর জন্য খুব সুন্দর গন্তব্য।
এখানকার রামকৃষ্ণ মঠ টি সবুজ ও সুন্দর বাগান দিয়ে ঘেরা যা প্রতিটি দর্শনার্থীদের কাছে খুবই আকর্ষণ করে তোলে। এখানে শ্রী রামকৃষ্ণ এবং তার পরিবারের ব্যবহৃত দুটি ছোট্ট কুঁড়েঘরকে ঘিরে তৈরি করা হয়েছে মূল মন্দিরটি। এছাড়াও এখানে দেখতে পাবেন হালদার পুকুর, লাহা বাবুর পাঠশালা, রাজ মঞ্চ এছাড়াও আপনি এখানকার মহাপ্রসাদ ভোগ গ্রহণ করতে পারেন। এখানে এলে আপনি আপনার বাজেটের মধ্যে হোটেল পেয়ে যাবেন যার কারণে আমরা থাকা খাওয়ার কোন অসুবিধা হবে না। 


কিভাবে যাবেন কামারপুকুর

কোলকাতা থেকে কামারপুকুর যাওয়ার সরাসরি কোন রেল যোগাযোগ নেই। হাওড়া থেকে তারকেশ্বর লোকালে আপনাকে তারকেশ্বর নেমে সেখান থেকে গাড়ি ভাড়া করে কামারপুকুর যেতে হবে। সবচেয়ে ভালো নিজে গাড়ি নিয়ে গেলে। তবে যেভাবেই যাবেন প্রায় ঘন্টা তিনেক সময় লাগবে। 


আমরা বাঙালিরা ঘুরতে যেতে খুবই পছন্দ করি, মাসে একবার করে ঘুরতে যেতে আমাদের সকলেরই মন চায়। এই কারণে আপনারা এইসব জায়গাগুলি থেকে ঘুরে আসতে পারেন আপনাদের অবশ্যই ভালো লাগবে।











Comments

Popular posts from this blog

Purulia: A Hidden Gem in West Bengal